“প্রতিযোগিতা থাকুক জনসেবায়, ভাগাভাগিতে নয়!”
জাতীয় সংসদ, যেখানে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের ভাগ্য নির্ধারিত হয়। অর্থাৎ বাংলাদেশের কোন জায়গায় কি পরিমাণ অর্থ ব্যায় হবে বা কোন স্তরে কি বিধান হবে এবং সেই বিধানের প্রয়োগের নিশ্চয়তা নির্ধারন হয় মূলত জাতীয় সংসদের অধিবেশন থেকে।
এখন প্রশ্ন! সেই জাতীয় সংসদের অধিবেশনে কারা যোগ দেয়?
বাংলাদেশের চলমান সংবিধান অনুযায়ী যে বা যাহারা তৃনমুল জনগনের কাছ থেকে এই নিশ্চয়তা নিশ্চিত করতে পারে যে, সে জনগনকে তার প্রাপ্য অধিকার এবং সুযোগ সুবিধা সহ নিরাপত্তা দিতে পারবে। জনগণের কাছ থেকে নিশ্চয়তা কিভাবে আসে? সমগ্র গণতান্ত্রিক বিশ্বে জনগণের প্রতিনিধি নির্ধারন হয় একটা গোপন ব্যালটের মাধ্যমে যেটাকে আমরা ভোট বলি। জনগন কাকে ভোট দেয় বা দিবে?
জনগণ তাকেই ভোট দেয়, যে জনগণের পাশে থাকে, জনগণের সুযোগ সুবিধা অনুধাবন করার চেষ্টা করে এবং জনগনকে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা দিতে পারে। জন প্রতিনিধি নির্ধারন করার এতো সুন্দর ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়া দুনিয়াতে আর নেই। যার কারণে জনপ্রতিনিধিরা জনগনের কাঠগড়ায় মুখোমুখি হতে বাধ্য।
কিন্তু এই সুন্দর প্রক্রিয়ার উপর হস্তক্ষেপ শুরু হয়েছে সেইদিন থেকে, যেইদিন থেকে আসন ভাগাভাগির চুক্তি শুরু হয়। এতে করে জনপ্রতিনিধিরা সরাসরি জনগণের কাছে না গিয়েই সংসদে জনগণের প্রতিনিধিত্ব করে। যাতে করে সাংসদ তার তৃনমুল জনগনের ইচ্ছা আকাঙ্খা এবং তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা থেকে দূরে সরে যায়। সাংসদ একটা সময়ে জনগণকে কৈফিয়ত দিতে বাধ্য থাকেনা। ফলে তার মধ্যে একধরনের স্বৈরাচারী আচরণ ফুটে উঠে।
আমি মনে করি, রাজনৈতিক মাঠে প্রতিযোগিতা আবশ্যক। অর্থাৎ একটা সংসদীয় এলাকায় যদি চারজন বা পাঁচজন জনপ্রতিনিধি হওয়ার প্রতিযোগিতা হয় তাহলে ঐ সংসদীয় আসনের জনসাধারণ সর্বোচ্চ সুযোগ সুবিধা ভোগ করার নিশ্চয়তা তৈরি হয়। কারণ প্রতিযোগি প্রার্থীদের মধ্যে জনসেবার প্রতিযোগিতা শুরু হবে। যে প্রার্থী জনগনের যতকাছে পৌঁছাতে পারবে সে প্রার্থী ততো বেশি ভোট নিজের পক্ষে আনতে সক্ষম হবেন। এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে জনগণের সর্বোচ্চ রায় নিশ্চিত হয়।
আমরা মাঝে মাঝে খেয়াল করি আমাদের দেশের কিছু অসাধু রাজনৈতিক যারা কিনা জনগণের কাছে যায়না, জনগণের সুখ দুঃখের ভাগিদার হতে চাননা কিন্তু মিডিয়ায় নিজেকে শিক্ষিত মার্জিত জনপ্রতিনিধি হিসেবে জাহির করতে চান শুধুমাত্র তারাই সংসদীয় আসন ভাগাভাগির শর্ত তোলেন। আমি আমার সহজ সরল স্বাভাবিক মনে তাদেরকে প্রশ্ন করছি- আপনারা তাহলে বাংলাদেশে কি চান?
যদি দেশ ও দেশের মানুষের প্রকৃত ভালোই চান তাহলে জনগণের কাছে গিয়ে জনগণের রায় নিয়ে আসেননা কেন?
আপনারা কোন প্রক্রিয়ার রাষ্ট্র বাংলাদেশে চান?
সরাসরি জনগণের সেবা করে জনগণের রায় নিয়ে রাজনীতি নাকি জনগণের সেবা এবং জনগণের রায় ছাড়াই সংসদে গিয়ে স্বৈরাচারী আচরণ করা?
বাংলাদেশে যে বা যাহারা রাজনীতির ভুল ফর্মূলা চালু করেছেন বা ভুল ফর্মুলায় জনগণের ভাগ্য অনিশ্চিত করছেন তাদেরকে আমার পক্ষ থেকে গণ ধিক্।
আমি দেশপ্রেমিক নীতিনির্ধারকদের কাছে আহ্বান জানাই, জনপ্রতিনিধিদের জনগণের কাছে পাঠিয়ে দিন, জনসেবায় প্রতিযোগিতা করে সে নিজেকে জনপ্রতিনিধি হিসেবে প্রমাণ করুক।
মোঃ ফয়েজ উদ্দিন,
সহ-শিল্প বিষয়ক সম্পাদক,
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মুক্তিযুদ্ধের প্রজন্ম,

মন্তব্যসমূহ